ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ , ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে বরখাস্ত প্রত্যাহার হলেও মব তৈরি করে সুপারকে অবরুদ্ধ, লাঞ্ছিত; পুলিশি সহযোগিতায় উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-২৭ ২১:৫৩:০৮
কুড়িগ্রামে বরখাস্ত প্রত্যাহার হলেও মব তৈরি করে সুপারকে অবরুদ্ধ, লাঞ্ছিত; পুলিশি সহযোগিতায় উদ্ধার কুড়িগ্রামে বরখাস্ত প্রত্যাহার হলেও মব তৈরি করে সুপারকে অবরুদ্ধ, লাঞ্ছিত; পুলিশি সহযোগিতায় উদ্ধার
 
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
 
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। সুপার পদকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন দুই পক্ষের দায়িত্বশীলরা। এতে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কার্যত অচলাবস্থার মুখে পড়েছে এবং ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
 
জানা গেছে, সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের পরও সুপার মো. সাইদুর রহমানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এতে প্রশ্ন উঠেছে—কোন ক্ষমতাবলে ভারপ্রাপ্ত সুপার এখনও দায়িত্বে বহাল আছেন।
 
২৪ এপ্রিল কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. মজিদুল হকের উপস্থিতিতে সাইদুর রহমানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় বলে জানা যায়। তবে দুই দিন পর, ২৬ এপ্রিল সকালে তিনি মাদ্রাসায় যোগ দিতে গেলে অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে বিকেল তিনটার দিকে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তালা খুলে কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
 
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ভারপ্রাপ্ত সুপারের সমর্থকদের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি সেখানে জড়ো হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। একপর্যায়ে সুপার সাইদুর রহমানকে কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাঁকে উদ্ধার করে।
 
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি কোনো মব তৈরি করিনি। ২৪ এপ্রিল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে লিখিতভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি।”
 
অন্যদিকে সুপার সাইদুর রহমান বলেন, “উপসচিবের নির্দেশ অনুযায়ী মাদ্রাসায় গেলে আমাকে লাঞ্ছিত করে কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করে। আমি এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেব।”
 
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
এদিকে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্তের নির্দেশ বারবার এলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এক ধরনের প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যেখানে নিয়মের চেয়ে প্রভাবই মুখ্য হয়ে উঠছে।
 
ঢাকায় শিক্ষা বিভাগের শুনানিতে গত ১৯ এপ্রিল দায়িত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর হয়নি। বরং একই সময়ে নতুন করে দেখা দিয়েছে সার্টিফিকেট জটিলতা। ২০২৪ সালের ১৬টি মূল সনদ এখনো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেনি।
 
সনদপত্র না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুনর্বহাল হওয়া সুপারকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
 
এ ছাড়া দুই শিক্ষক-কর্মচারীর ৬ থেকে ৭ মাসের বেশি সময় ধরে বেতন স্থগিত থাকার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা প্রচলিত নিয়মের পরিপন্থী।
 
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী মজিবর রহমানের চাকরির বয়সসীমা শেষ হলে কমিটির সিদ্ধান্তে তার বেতন স্থগিত করে বিষয়টি অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। পরে সুপার সাইদুর রহমান সাময়িক বরখাস্ত হলে ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল ইসলাম ওই কর্মচারীর আইডি সংশোধন করে দেন এবং দুই বছরের স্থগিত বেতন উত্তোলন করিয়ে বর্তমানে তা চালু রাখেন।
 
একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও কেন শুধুমাত্র দুজনের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের চেয়ে প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত বহন করে।
 
সব মিলিয়ে তদন্তহীনতা, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গাফিলতি এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ